ডুমুর ফল ? ডুমুর ফল এর উপকারিতা ? ডুমুর ফল খাওয়ার নিয়ম ? ডুমুর ফলের
অপকারিতা ?
পোস্ট সামারীঃ
ডুমুর ফল ?
ডুমুর ফলের ইংরেজি নাম ?
ডুমুর গাছের বৈশিষ্ট ?
- কোন সময় ডুমুরের ফুল ধরে ?
- ডুমুরের ফুলের আকার ?
- ডুমুর ফল কত প্রকার ও কি কি?
- ডুমুরের বিভিন্ন নাম ?
ডুমুর ফল এর উপকারিতা ?
ডুমুর ফলের অপকারিতা ?
ডুমুর ফল ?
মাঝারি আকারের গাছ। লম্বায় খুব একটা বড় হয় না। উচ্চতায় কুড়ি থেকে বাইশ ফুটের মতো হয়। শীতে গাছ একেবারে পাতাশূন্য হয়ে যায়। আর পুরাতন পাতা খসে পড়ার পর নতুন পাতা গজাতে শুরু করে ।
আরও জানুনঃ লটকন কি ? লটকনের উপকারিতা ? লটকন গর্ভাবস্থায় লটকন এর উপকারিতা ?
ডুমুর ফলের ইংরেজি নাম ?
ডুমুর ফলের ইংরেজি নামঃ ডুমুর ফলের ইংরেজি নাম fig ফিগ বা বৈজ্ঞানিক Ficus racemose .
ডুমুর গাছের বৈশিষ্ট ?
পাতা
বেশ চওড়া। ডগার দিকটা সরু।
পাতার ওপরদিকটা সরু লোমে ঢাকা
থাকে । ফলে হাত
দিলে খসখসে মনে হয় ।
Read More: Jackfruit Seeds Benefits & jackfruit seeds Precautions and Side Effects ?
ডুমুরগাছের
ফুল আমরা কেউই দেখতে
পাই না। আমরা বহু
দিন কোন পরিচিত ব্যক্তিকে
অথবা নিকট আত্মীয়কে দীর্ঘদিন
ধরে দেখতে না পেলেও ডুমুরের
ফুলের উপমা দিয়ে থাকি।
অবশ্য ডুমুরের ফুল চোখে দেখতে
না পেলেও ফলের ভেতরে বহু
ফুল থাকে। সেইজন্য একে অন্তঃপুশ্চ বৃক্ষও
বলা হয় ।
কোন সময় ডুমুরের ফুল ধরে ?
ফাল্গুন
থেকে চৈত্র মাসের মধ্যে গাছে ফল ধরতে
শুরু করে। আঙ্গুরের থোকার
মতো ডুমুর একসঙ্গে থাকলেও গাছের কাণ্ড ও ডালের সঙ্গে
একেবারে লেগে থাকে ।
অর্থাৎ অন্যান্য ফলের মতো ঝোলে
না। সাধারণ ডুমুর যেটা আমরা তরকারি
করে খাই, সেটা কিন্তু
ওষুধ হিসাবে বিভিন্ন রোগে ব্যবহৃত হয়
না
এটা
আকারে ছোট। ফলের ওপরটা
খসখসে। ফল কাটলে ভেতরটায়
গোলাপী রং দেখা যায়।
অপর দিকে যজ্ঞডুমুর আকারে
সাধারণ ডুমুরের থেকে প্রায় দ্বিগুণ
বড় হয়। ফলের ওপরটা
মসৃণ। কাটলে ভেতরের রংটা সাদা দেখায়।
আর এক শ্রেণীর ডুমুর
রয়েছে, তাকে কাকডুমুর বলে।
এই জাতের ডুমুরের কোন ভেষজগুণ নেই
।
আরও জানুনঃ আমের বিচির উপকারিতা ? কোলেস্টেরলের মাত্রা নিয়ন্ত্রণ করে আমের আঁটি ?
ডুমুরের ফুলের আকার ?
যজ্ঞডুমুর
গাছের ডাল কাটলে এবং
পাতা ছিঁড়লে ঘন দুধের মতো
এক ধরনের আঠা বের হয়
। তারজন্য গ্রামবাংলার মানুষ একে ক্ষীরবকৃক্ষও বলে
। ভারতের প্রায় সব জায়গায় যজ্ঞডুমুর
গাছ জন্মায়। গাছটি বিনা যত্নে এবং
অবহেলায় বড় হয় ।
অনেকে শখ করে বাগানে
রোপণ করেন।
ডুমুর ফল কত প্রকার ও কি কি?
প্রায় ৮০০ প্রজাতির ডুমুর রয়েছে। বাংলাদেশে প্রধারনত যে ডুমুর পাওয়া যায় (Ficus hispida) তার ফল ছোট হয়ে
থাকে এবং এটা খাওয়ার অনুপযোগী। এই ডুমুরের আরেক নাম 'কাকডুমুর'। এই ডুমুর প্রধারনত পাখিরা খায় তার
সাথে পক্ষির বিষ্ঠার সাহায্যে বীজের বিস্তার হয়।
আরও জানুনঃ অ্যামনিওটিক ফ্লুইড কি ? অ্যামনিওটিক ফ্লুইড এর কাজ কি ?
গর্ভফুল কি ? গর্ভবতী কত দিন পর সন্তান ভূমিষ্ঠ হয়
ডুমুরের বিভিন্ন নাম ?
বাংলা-যজ্ঞডুমুর, ক্ষীরবৃক্ষ। মারাঠি-উম্বরু। সংস্কৃত-উদুম্বর। ইংরেজি- ফিগ । হিন্দি-গুলার । তামিল-থারসা। ওড়িয়া-যজ্ঞডিম্বিরী। তেলেগু-রাইগা। সৌদি আরব ও বাংলাদেশ এই ফলকে ত্বীন (ডুমুর) নামে ডাকলেও আদার্স দেশ, বিশেষ করে ভারত, তুরস্ক, মিসর, জর্দান ও যুক্তরাষ্ট্রে এটা আঞ্জির নামে পরিচিত।
ডুমুর ফল এর উপকারিতা ?
কেটে
গেলে ডুমুরের ব্যবহারঃ ডুমুরের
কচি ডাল ও পাতা
সামান্য পরিমাণ থেঁতো করে একটা মাটির
হাঁড়িতে রাখতে হবে। এরপর এক
লিটার জল হাঁড়িতে দিয়ে
মৃদু আঁচে জ্বাল দিয়ে
ফোটাতে হবে। জল ফুটে
অর্ধেক হলে পাত্রটি আঁচ
থেকে নামিয়ে ঠাণ্ডা হলে পরিষ্কার পাতলা
কাপড়ে ছেঁকে ফেলা দরকার। এরপর
আবার জ্বাল দিয়ে ঘন আঠার মতো
হলে মাটির হাঁড়ি আঁচ থেকে নামিয়ে
ঠাণ্ডা হলে সেটা কাটা
জায়গায় প্রয়োগ করা হবে। যে
আঠা তৈরি করা হলো
সেটা দীর্ঘ দিন ভালো রাখার
জন্য আঠাতে ৫০০ মিলিগ্রাম সোহাগা
মিশিয়ে দিলে এক বছর
আঠার কার্যকর ক্ষমতা বাজায় থাকবে ।
আরও জানুনঃ ডায়াবেটিস কি ? ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণ করার উপায় বা ডায়াবেটিস কমানোর উপায় ?
ফোঁড়া ফাটাতে ডুমুরের ব্যবহারঃ
কেটে গেলে যেভাবে
আঠা তৈরি করা হলো,
সেটা পাঁচ গ্রাম পরিমাণ
নিয়ে কেন কাঁচের অথবা
পাথরের বাটিতে রেখে পনের মিলিলিটার
ঠাণ্ডা জল মিশিয়ে আঠাকে
খানিকটা পাতলা করে সেটা পরিষ্কার
তুলো অথবা কাপড়ের টুকরোতে
ভিজিয়ে ফোঁড়ার ওপর পটি হিসাবে
প্রয়োগ করলে নিজের থেকে
ফোঁড়া ফেটে পুঁজ ও
রক্ত বের হয়ে যাবে।
দিনে একবার করে দু-তিন
দিন আঠা মেশানো পটি
ব্যবহার করা প্রয়োজন ।
রক্ত আমাশয় ডুমুরের ব্যবহারঃ
গাছের তিন গ্রাম টাকা
শেকড় সামান্য জল দিয়ে বেটে
তার সম্পূর্ণরস সকালে এবং বিকেলে মোট
দুবার খেলে রক্ত আমাশয়
সম্পূর্ণ ভালো হয়ে যায়
। এক সপ্তাহ নিয়ম
করে খাওয়া দরকার ।
লোকমান
হেকিমের কবিরাজী ও টোটকা চিকিৎসা
গনোরিয়া
ডুমুরের ব্যবহারঃ যজ্ঞডুমুরের শুকনো ছালের গুঁড়ো আড়াই গ্রাম এবং একই পরিমাণ
জিরে ও দুচামচ চিনি
মিশিয়ে খেলে রোগী আরোগ্য
লাভ করে ।
আরও জানুনঃ জাম খেলে কি কি উপকার পাওয়া যায় ? জামের পুষ্টিগুণ ও উপকারিতা, জাম এ কি কি ভিটামিন আছে?
বহুমূত্র
রোগে ডুমুরের ব্যবহারঃ মূলের টাটকা রস দশ মিলিলিটার
রোজ সকালে একবার করে কেলে উপকার
হয়। এটি সংগ্রহ করার
অসুবিধে থাকলে পাকা শক্ত ডুমুরের
রস দশ মিলিলিটার খেলে
একই কাজ পাওয়া যাবে
।
রক্তপিত্তে ডুমুরের ব্যবহারঃ যজ্ঞডুমুরের
(কাচা ডুমুর) রস দশ থেকে
পনের মিলিলিটার।
দিনে
একবার করে খেলে উপকার
হবে।
ডুমুর ফল খাওয়ার নিয়ম ?
- কাঁচা ডুমুর সবজি হিসেবে অন্য সবজির
সাথে ভাজি হিসেবে খাওয়া যায়।
- ভর্তা করে ডুমুর খাওয়া যায়।
- ছোট মাছের সাথে চচ্চরি হিসেবে খাওয়া যায়।
- রোদে শুকিয়ে অন্য ফলের সাথে শুকনো ফল হিসেবে
- পাকা ডুমুর এমনিতে খাওয়া যায়।
- ডুমুরের গাছের পাতা, ছাল এবং শিকরের রস বিভিন্ন ধরনের
ওষুধ তৈরী হয়।
আরও জানুনঃ ভিটামিন ডি কি ? ভিটামিন ডি এর উপকারিতা ? ভিটামিন ডি এর অভাবে কি কি হয় ?
ডুমুর ফলের অপকারিতা ?
ডুমুর ফলের যেমন পর্যাপ্ত উপকারিতা রয়েছে,ঠিক তেমনি ভাবে এর মধ্যে কয়েকটি অপকারিতাও বিদ্যমান। প্রত্যেকটি জিনিসের উদাহরণসরূপ সুবিধে রয়েছে নির্ভুল তেমনি অসুবিধাও রয়েছে।
ডুমুর ফলের অপকারিতা গুলো তুলে ধরা হলো-
·
ডুমুরের ফলের আঠা মানুয়ের
শরীরে লাগলে এলার্জি প্রতিক্রিয়া হতে পারে।
·
প্রয়োজনের চেয়ে বেশি ডুমুর খেলে শরীরের রক্ত পাতলা হতে
পারে।
·
অতিরিক্ত ডুমুর ফেলে ডায়রিয়া থেকে পারে।
· অতিরিক্ত পরিমাণ ডুমুর ওজন বৃদ্ধি হতে পারে।
আরও জানুনঃ গর্ভবতী মায়ের খাবার তালিকা এবং গর্ভবতী মায়ের খাবার ?
ডুমুর ফল খাওয়ার নিয়ম ?
·
ডুমুর ফলের অপকারিতা ?
·
কাঁচা ডুমুর সবজি হিসেবে অন্য সবজির সাথে ভাজি হিসেবে খাওয়া যায়।
- ভর্তা করে ডুমুর খাওয়া যায়।
- ছোট মাছের সাথে চচ্চরি হিসেবে খাওয়া যায়।
- রোদে শুকিয়ে অন্য ফলের সাথে শুকনো ফল হিসেবে খাওয়া যায়।
- পাকা ডুমুর এমনিতে খাওয়া যায়।
- ডুমুরের গাছের পাতা, ছাল এবং শিকরের রস বিভিন্ন ধরনের ওষুধ তৈরী হয়।
ডুমুর ফলের দাম কত ?
১ কেজি ডুমুর ফলের দাম ১৫০০/- টাকা। অর্থাৎ এক কেজি শুকনো ডুমুর দামও প্রায়ই একই।
ত্বীন ফল কি ডুমুর ?
পবিত্র কুরআন মাজিদের আত-ত্বীন সূরায় উক্ত ত্বীন ও জয়তুন ফলের গুণাগুণ সম্মন্ধে উল্লেখ রয়েছে। আত-ত্বীন এবং ডুমুর একই । সেই ত্বীন বা ডুমুর গাছগুলো প্রধারনত পাতলা, ফাস্ট বর্ধনশীল তার সাথে নানারকম দিকে ছড়িয়ে যাওয়ার প্রবণতা লক্ষ্য যায়। যার ফলে গাছগুলো উচ্চতার চেয়ে প্রস্থে অধিক হয়ে থাকে। ত্বীন চরম জলবায়ু অর্থাৎ শুষ্ক ও শীত প্রধান দেশে চাষ হলেও আমরা প্রুফ করেছি নাতিশীতোষ্ণ জলবায়ুতেও ৩৬৫ দিন এ ফল উদ্ভাবন সম্ভব।
পাকা ডুমুর খাওয়ার নিয়ম ?
ডুমুর অত্যন্ত পুষ্টিমান সম্পন্ন সমৃদ্ধ সবজি। ডুমুর সবজি হিসেবে ,
কাচাঁ ডুমুর এবং পাকাঁ ডুমুর খাওয় যায়।
ডুমুরে আছেঃ
- ভিটাসির এ
- ভিটামিন বি
- ফাইবার প্রচুর রয়েছে
- প্রোটিন এবং
- অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট রয়েছে।
সকালে খালি পেটে ডুমুর খাওয়া
স্বস্থ্যের জন্য বেশ উপকারী ।
আরও জানুন: পলিসিস্টিক ওভারি সিনড্রোম কি ? পলিসিস্টিক ওভারি সিনড্রোম লক্ষণ ?
শুকনো ডুমুর খাওয়ার নিয়ম ?
শুকনো ডুমুর খাওয়ার কানুন শুকনো ডুমুরে অনেক সংখ্যায় ফাইবার ও অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট রয়েছে। শুকনো ডুমুর কেটে খাওয়া যায়। এছাড়াও এতে অন্য কোন অন্ন যোগ করে খেতে পারেন। আর বহু সাহায্য পেতে হলে দুই একটা শুকনো ডুমুরকে সারারাত পানিতে ভিজিয়ে পরদিন সকালে খেতে পারেন।
ডুমুর ফলের অপকারিতা ?
ডুমুর ফলের যেমন পর্যাপ্ত উপকারিতা রয়েছে,ঠিক তেমনি ভাবে এর মধ্যে কয়েকটি অপকারিতাও বিদ্যমান। প্রত্যেকটি জিনিসের উদাহরণসরূপ সুবিধে রয়েছে নির্ভুল তেমনি অসুবিধাও রয়েছে।ডুমুর ফলের অপকারিতা গুলো তুলে ধরা হলো-
·
ডুমুরের ফলের আঠা মানুয়ের
শরীরে লাগলে এলার্জি প্রতিক্রিয়া হতে পারে।
·
প্রয়োজনের চেয়ে বেশি ডুমুর খেলে শরীরের রক্ত পাতলা হতে
পারে।
·
অতিরিক্ত ডুমুর ফেলে ডায়রিয়া থেকে পারে।
·
অতিরিক্ত পরিমাণ ডুমুর ওজন বৃদ্ধি হতে পারে।
রিলেটেড ট্যাগঃ ডুমুর ফলের ইংরেজি নাম, ডুমুর ফল, ডুমুর ফল এর উপকারিতা, ডুমুর ফল খাওয়ার নিয়ম, ডুমুর ফল এর ছবি, ডুমুর ফলের উপকারিতা, ডুমুর ফল এর অপকারিতা,কাচা ডুমুরের উপকারিতা ?

0 মন্তব্যসমূহ